Home arrow Hon'ble PM's Speech arrow Other Speeches arrow Disaster related Machinery handover ceremony [December 15, 2010]
Print
 

ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগে উদ্ধার কাজে সংগৃহীত যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠান

ভাষণ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা

ঢাকা, বুধবার, ০১ পৌষ ১৪১৭,  ১৫ ডিসেম্বর ২০১০


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

সহকর্মীবৃন্দ,

সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ,

সুধিমন্ডলী।

আসসালামু আলাইকুম।

দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি হস্তান্ত উপলক্ষে আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

যেসব যন্ত্রপাতি দেওয়া হচ্ছে, এগুলো দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙ্গন, অতিবৃষ্টি, খরা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের অর্থনীতি ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই দুর্যোগের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশ বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম ১০টি দেশের শীর্ষে অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে ভূমিকম্প, অগ্নিকান্ড, ভবন ধ্বসে পড়াসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

গত শতব্দীতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণ ও নীতি নির্ধারকদের তেমন একটি ধারণা ছিল না। তখন দেশে কোন বড় সেতু, উঁচু ভবন কিংবা অবকাঠামো তৈরি হয়নি। গত শতাব্দীর মাঝামাঝি এবং তার আগে যেসব ভূমিকম্প আমাদের দেশে আঘাত হেনেছে, তাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অপেক্ষোকৃত কম ছিল।

কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে অসংখ্য আকাশচুম্বী দালানকোঠা গড়ে উঠেছে। তৈরি হয়েছে বড় বড় সেতু এবং অবকাঠামো।

আমাদের এসব দালান-কোঠা এবং অবকাঠামো কতটুকু ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মাণ করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বোধ করি আমাদের কারই সঠিক ধারণা নেই। পাশাপাশি এসব উঁচু ভবনে কোন কারণে অগ্নিকান্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটলে, সেখানে উদ্ধার কাজ চালানোর মত যন্ত্রপাতিও আমাদের ছিল না।

গত বছর বসুন্ধরা সিটিতে অগ্নিকান্ড, বেগুনবাড়ী দালান ধ্বস, নিমতলী অগ্নিকান্ড, আমিন বাজার বাস দুর্ঘটনা, অতি সম্প্রতি নরসিংদী ট্রেন দুর্ঘটনা এবং গতকালের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকান্ডের সময় উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে আমাদের অসহায়ত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

ভূমিকম্পসহ যে কোন দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য আমরা ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। সরকার ইতোমধ্যে নিজস্ব ব্যয়ে দুর্যোগ পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ভারী ও হাল্কা অনুসন্ধান ও উদ্ধার যন্ত্রপাতিসমূহ ক্রয় করেছে।

ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগে জরুরিভাবে সরবরাহের লক্ষ্যে এসব যন্ত্রপাতি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সিটি কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য সরকার স্থানীয়ভাবে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ পূর্ব, দূর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সুধিবৃন্দ,

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেন। সে সময় ঘুর্ণিঝড়ে জনগণের দুর্ভোগ হ্রাস করার জন্য দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ ও বনায়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এছাড়াও, ঘূর্ণিঝড় কবলিত জনসাধারণকে সর্তক ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলে যেতে সাহায্য করার জন্য আন্তর্জাতিক রেডক্রস সোসাইটি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্ত্ততি কর্মসূচি'র যাবতীয় ব্যয়ভার বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে গ্রহণ করেন।

উপকূলীয় জেলাগুলোতে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ঘূর্ণিঝড়ে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি আস্তে আস্তে কমে আসতে শুরু করে।

বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি হিসেবে আমরা ১৯৯৬-২০০১ সময়ে দায়িত্ব পালনকালে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য ১৯৯৭ সালে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী প্রণয়ন করি। এই আদেশাবলী দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। মূলতঃ এই দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী সফল বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান লাভ করেছে।

সুধিবৃন্দ,

যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণ, সকল সরকারি-বেসরকারি বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার এবং বাংলাদেশের আমর্ড ফোর্সেস পূর্বের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল।

নিকট অতীতে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্যোগপীড়িত দেশের জরুরি সাড়া দিতে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা শ্রীলংকা, মিয়ানমার, চীন এবং সম্প্রতি হাইতিতে মানবিক সেবায় কাজ করেছে।

আমাদের এ সাফল্যের ধারাকে এগিয়ে নিতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের যে কোন প্রাকৃতিক ও অন্যান্য বিপর্যয়ে প্রথম সাড়া দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্রবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সব সময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।

ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলা, বেগুনবাড়ী দালান ধ্বস, নিমতলী অগ্নিকান্ড, আমিন বাজার বাস দুর্ঘটনা এবং অতি সম্প্রতি নরসিংদী ট্রেন দুর্ঘটনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উদ্ধার কাজে তারাই সর্বাগ্রে অংশ নেয়।

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে নগরায়ণ। ভূমিকম্প কখন কোথায় আঘাত হানবে তা কেউ বলতে পারে না। তবে আমাদের দেশ যে ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, এটা সবাই বলে।

আল্লাহ না করুন, যদি কখনও ভূমিকম্প আমাদের দেশে আঘাত হানে, তখন দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য আমাদের এখন থেকেই প্রস্ত্ততি গহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা।

আমি সকলের প্রতি আহবান জানাই, আসুন স্বাভাবিক সময়ে, দুর্যোগকালে ও দুর্যোগের পর দুর্যোগ কবলিত মানুষের জরুরি সেবা প্রদানে আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করি। জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হই।

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ,

            প্রতিটি দুর্যোগের পর অবরুদ্ধ ও হতাহতের সংখ্যা অনেক থাকে। আবহাওয়া অনেক ক্ষেত্রে অনুকূল থাকে না। কোন কোন উদ্ধার কাজ কোন একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব হয় না।

বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ সহজ করা যায়। সঠিক পরিকল্পনা উদ্ধার কাজকে সহজসাধ্য করে এবং কর্মীদের ঝুঁকি কমায়।

যে কোন দুর্যোগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কন্টিজেন্সি প্ল্যান প্রণয়ন করেছে।

আমরা ভূমিকম্পে উদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দল গড়ে তুলছি। 

সুধিমন্ডলী,

            ভূমিকম্প দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ ও জরুরি সাড়া দান কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান ও ও সমন্বয়ের জন্য খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে চেয়ারপার্সন করে Earthquake Preparedness and Awarness Committee গঠন করা হয়েছে।

ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত এবং কার্যকরী ভূমিকা রাখার জন্য সম্প্রতি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর, পদাতিক, আর্টিলারি এবং অন্যান্য কোরের কর্মক্ষমতা এবং সম্পদ অনুযায়ী ভারি, মাঝারি এবং হালকা এই তিনটি শ্রেণীতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে এই শ্রেণী বিন্যাস অনুযায়ী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলসমূহকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সহায়তায় এই অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সীমিত সম্পদ দিয়েই দুর্যোগ মোকাবেলায় আরও দ্রুত এবং কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

আমি আশা করি ভূমিকম্পে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা যেকোন দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে পারব।

            সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।  

খোদা হাফেজ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধ।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

......

 

Press Briefing

Press Release

Contact Info

Contact
Prime Minister's Office
Old Sangsad Bhaban
Address:  Tejgaon, Dhaka-1215
                    Bangladesh
E-mail:   This e-mail address is being protected from spam bots, you need JavaScript enabled to view it